Breaking

Wednesday, November 28, 2018

উচ্চশিক্ষায় ইউরোপের আদর্শ দেশ বেলজিয়াম

উচ্চশিক্ষায় ইউরোপের আদর্শ দেশ বেলজিয়াম
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত উত্তর পশ্চিম ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম। বলা যায় ইউরোপের ক্ষুদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। উন্নত এ দেশটি উভয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েই জার্মানির দখলে ছিল। কিন্তু বর্তমানে স্বাধীন এ দেশটি অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নত। একই সাথে দেশটির উচ্চশিক্ষার মান অনেক ভালো। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি আদর্শ দেশ হতে পারে বেলজিয়াম।
বেলজিয়ামের শিক্ষা ব্যবস্থা, সময় :
ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের মত বেলজিয়ামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাচেলর ডিগ্রী, পিএইচডি পর্যায়ে বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। এখানে ব্যাচেলর কোর্সগুলো ৩-৪ বছর মেয়াদী। বেলজিয়ামে বছরে সাধারণত ৩ টি সেমিস্টার রয়েছে। এগুলো হল- সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি পর্যন্ত একটা, আরেকটা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে এবং অন্যটা জুলাই এর প্রথম দিকে। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য প্রথমেই শিক্ষার্থীদের খেয়াল করতে হবে তাদের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড বেলজিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য সমমানের হয়েছে কি না। যদি সমমান হয় তাহলে আবেদন করা সম্ভব হবে।
যে বিষয়ে পড়তে পারেন:
এখানে মডার্ন হিস্ট্রি, ল্যাটিন, গ্রিক, জার্মান, আর্কিওলজি, নরডিক স্টাডিজ, কমিউনিকেশন স্টাডিজ, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ল, সোসিওলজি, জিওগ্রাফি, বায়োলজি, কেমিস্ট্রি, জেনেটিক্স, মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স, প্যাথলজি, সার্জারি, ডেন্টিস্ট্রি, মাইক্রো বায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি, রেডিওলজি, টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন, আর্কিটেকচার, আরবান প্লানিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইকোনমিক্স, বিজনেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ফার্মেসি, ভেটেরিনারি, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিক্স, ম্যাথমেটিক্স, হর্টিকালচার ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাটিসটিকসসহ আরো অনেক যুগোপযোগী বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদান করা হয়।
পড়াশোনার ভাষা ও আবেদন প্রক্রিয়া:
বেলজিয়ামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণত ডাচ ভাষায় পড়াশোনা করানো হয়। অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানে ইংরেজিতে পড়াশোনা করা যায়। তাই বেলজিয়ামে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী হলে ডাচ ভাষার উপর ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বেলজিয়ামে পড়াশোনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তথ্য ও প্রসপেক্টাস চেয়ে আবেদন করলে তারা বিস্তারিত প্রসেসিং প্ল্যান পাঠিয়ে দিবে। প্রাথমিক আবেদন সাধারণত ই-মেইল করা যায়। তারপর তাদের নির্দেশনা মোতাবেক যাবতীয় শিক্ষাগত ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ ফি কুরিয়ার করে পাঠাতে হবে।
ইউনিভার্সিটিতে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র:
আইইএলটিএস থেকে ৬.৫ (ইংরেজি মাধ্যমের জন্য), একাডেমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০% মার্কস থাকা ভাল, এসএসসি ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট, এইচএসসি ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট, ব্যাচেলর ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট (মাস্টার্স এ অ্যাপ্লাই করতে), মাস্টার্স ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট (পিএইচডি’র জন্য) অ্যাপ্লিকেশান গ্রহণযোগ্য হলে শিক্ষার্থীদের ভর্তির যোগ্যতাগুলো পূরণ করে  টিউশন ফি দিতে হবে। যোগ্যতা ইউনিভার্সিটিতে ওয়েবসাইট/প্রোগ্রাম কো – অরডিনেটর থেকে জেনে নিতে হবে। এখানে বলে রাখা ভাল যে, কিছু কিছু প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য একটা এন্ট্রান্স এক্সাম দিয়ে পাশ করতে হয়।
বেলজিয়ামের কয়েকটি বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি হচ্ছে:
Katholieke Universiteit Leuven
University of Ghent
Université Catholique de Louvain
Vrije Universiteit Brussel
Universite Libre de Bruxelles
বেলজিয়াম সরকারী বৃত্তি:
VLIR-UOS মূলত বেলজিয়াম সরকার প্রদত্ত বৃত্তি । এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে এমন ১০ টি এশিয়ান দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এর নাম অন্তর্ভুক্ত আছে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশ এর স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং আবেদন করার সময় বাংলাদেশ এ অবস্থান করতে হবে। আইইএলটিএস gor ব্যান্ড ৬.০ বা টোফেলে ৫৫০ (পেপার) বা ৭৯ (আইবিটি) স্কোর থাকলে আবেদন করা যাবে। জিম্যাট বা জিআরe এর প্রয়োজন নেই বললেই চলে।
VLIR-UOS তিন ধরনের বৃত্তি দিয়ে থাকেঃ প্রফেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে চাকরি অভিজ্ঞতা অতীব প্রয়োজন।এক বা দুই বৎসর মেয়াদি মাস্টাস প্রোগ্রাম । মাস্টাস প্রোগ্রামে চাকরি অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তবে চাকরি অভিজ্ঞতা থাকলে বৃত্তি পেতে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। এক বৎসর মেয়াদি মাস্টাস প্রোগ্রাম গুলো মাল্টিডিসিপ্লিনারী কোর্স। যে কেউ আবেদন করতে পারবেন, যদি মটিভেশন লেটার বা স্টেটমেন্ট অফ পারপার্স এর মাধমে প্রমান করতে পারেন আপনি এই বিষয় নিয়ে কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী। প্রফেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম এর জন্য সবোচ্চ বয়স ৪৫ বৎসর এবং মাস্টাস প্রোগ্রাম এর জন্য সবোচ্চ ৪০ বৎসর বয়সীরা আবেদন করতে পারবেন।
যা যা দরকারঃ
১) দুই/তিনটা রেফেরেন্স বা রেকমেন্ডেশন লেটার,  ২) মটিভেশন লেটার বা স্টেটমেন্ট অফ পারপার্স ৩) আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর ৪) অনার্স ও মাস্টার্স এর ট্রান্সক্রিপ্ট ৫) অনার্সর ও মাস্টার্স এবং এসএসসি ও এইচএসসি এর সার্টিফিকেট ৬) প্রফেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রামের জন্য কর্মশালা থেকে একটি চিঠি। যাতে লেখা থাকবে এই ট্রেনিং নিলে আপনার কর্মসংস্থানে কি কি উপকার হবে।
পড়াশোনা, থাকা খাওয়া ও অন্যান্য খরচ:
বেলজিয়ামে পড়াশোনার খরচ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চেয়ে অনেক কম। এখানে একজন বিদেশী শিক্ষার্থীকে বছরে সাধারনত ৩২ হাজর ৮শ’ টাকা থেকে ৮৪ হাজার ৫শ’ টাকা পর্যন্ত টিউশন ফি দিতে  হয়। এখানে থাকা খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ একজন শিক্ষার্থীর মাসে প্রায় ৩২ হাজার থেকে ৪০হাজার টাকার প্রয়োজন।
কাজ করার সুযোগ:
বেলজিয়ামে বিদেশী শিক্ষার্থী সপ্তাহে ১৫-২০ ঘন্টা পার্টটাইম কাজ করতে পারে। আর সামার বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আপনি ৯০ দিন ফুলটাইম কাজ করতে পারবেন।

দ্রষ্টব্য এটি শুধুমাত্র প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য যারা সত্যিই বিদেশ থেকে বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। আবেদনকারীরা দৃঢ়ভাবে আমাদের অফিসে :
 সরাসরি যোগাযোগ বা মৌলিক তথ্যের জন্য ফোন 01911878274 এ সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়। যদি আপনি আরও যেতে চান তবে পাসপোর্ট সহ আপনার সমস্ত অ্যাকাডেমিক নথির সাথে আমাদের অফিসে যান।

সানরাইজ এডুকেশন কন্সালটেন্টস
ফোন: 01911878২74; 01707272625
ইমেইল: info@sunrise-bd.net
ওয়েবসাইট: www.sunrise-bd.net

No comments:

Post a Comment